বিদেশে প্রবাসীদের জীবন কেমন—প্রবাস ভ্রমণ গাইড

বিদেশে প্রবাসীদের জীবন কেমন তা যারা বিদেশে থাকে একমাত্র তারাই ভালো বলতে পারবে। কেননা বিদেশে একজন প্রবাসী নিজে না খেয়ে দেশের মাটিতে তার আপনজনদের কাছে টাকা পাঠায় কিন্তু বেশির ভাগ প্রবাসীই নানাবিত কারণে প্রতারণার শিকার হয়।
বিদেশে-প্রবাসীদের-জীবন-কেমন


আমরা মুলত প্রবাসীদের কষ্ট আপনাদের মাঝে তুলে ধরার প্রধান কারণ হলো অপনারা অনেকেই নানা কারণে প্রবাসী ভাইদের কে কষ্ট দিয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের পরিশ্রমের মূল্যায়নটা ঠিক ভাবে করেন না তাই আপনাদের মাঝে প্রবাসী ভাইদের কষ্ট গুলো উপস্থাপন করা।

পেজ সূচিপত্র: বিদেশে প্রবাসীদের জীবন কেমন নিয়ে আলোচনা

বিদেশে প্রবাসীদের জীবন কেমন

বিদেশে প্রবাসীদের জীবন কেমন এই প্রশ্নটা বাইরে থেকে খুব সহজ মনে হলেও ভেতরে ভেতরে এর উত্তর ভীষণ গভীর। আমি কিংবা তুমি যদি প্রবাসে না থাকো, তাহলে আমাদের ধারণা তৈরি হয় মূলত সোশ্যাল মিডিয়া দেখে। সুন্দর ছবি, ঝকঝকে রাস্তা, বিদেশি খাবার আর হাসিমুখ সব মিলিয়ে মনে হয় প্রবাস মানেই সুখ। কিন্তু এই ছবির আড়ালে যে একাকীত্ব, মানসিক চাপ আর নিরব সংগ্রাম লুকিয়ে থাকে, সেটা শুধু প্রবাসীরাই জানে।

প্রবাসীদের জীবন শুরু হয় একা থাকার মধ্য দিয়ে। আপনি যখন নতুন দেশে পৌঁছান, তখন চারপাশে মানুষ থাকলেও কেউ আপনাকে চেনে না। নিজের ভাষা নেই, পরিচিত মুখ নেই, আবেগ ভাগ করার মানুষ নেই। আমি অনেক প্রবাসীর কাছ থেকে শুনেছি দিনভর মানুষের ভিড়ের মধ্যে থেকেও রাতে ঘরে ফিরে নিজেকে সবচেয়ে একা লাগে। এই একাকীত্ব ধীরে ধীরে মানুষকে ভেতর থেকে বদলে দেয়।

তুমি যদি প্রবাসে যাও, প্রথম যে বিষয়টা টের পাবে তা হলো এখানে কেউ তোমার কষ্ট বুঝবে না। কাজ শেষ করে বাসায় ফিরলেও কেউ জিজ্ঞেস করবে না, আজ কেমন ছিল এই নীরবতা প্রথম দিকে ভয় ধরায়, পরে ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়। প্রবাসীদের জীবন কেমন এই প্রশ্নের আসল উত্তর লুকিয়ে আছে এই নীরবতার ভেতরেই।

পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্টটা প্রবাস জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। আপনি টাকা পাঠাতে পারেন, কিন্তু নিজের উপস্থিতি পাঠাতে পারেন না। সন্তানের প্রথম হাঁটা, মায়ের অসুখ, বাবার ক্লান্ত মুখ সবকিছু শুধু ফোনের স্ক্রিনে দেখতে হয়। আমি দেখেছি, অনেক প্রবাসী রাতে ভিডিও কল শেষ করে নিঃশব্দে কেঁদে ফেলে, কিন্তু পরদিন আবার হাসিমুখে কাজে যায়।

তবুও মানুষ প্রবাসে থাকে, কারণ দায়িত্ব মানুষকে শক্ত করে। প্রবাসীদের জীবন কেমন তা পুরোপুরি বোঝা যায় তখনই, যখন নিজের সুখের চেয়ে পরিবারের প্রয়োজন বড় হয়ে ওঠে। এই ত্যাগই প্রবাসীদের জীবনকে আলাদা করে তোলে।

প্রবাসীদের জীবন ও বাস্তবতা

প্রবাসীদের জীবন ও বাস্তবতা এই দুইটা শব্দ একসাথে শুনলেই বোঝা যায়, এখানে গল্পটা সহজ নয়। বাস্তবতা হলো, প্রবাস জীবন যতটা স্বপ্নের মনে হয়, ভেতরে ভেতরে ততটাই কঠিন। আমি অনেক মানুষকে দেখেছি, যারা বড় আশা নিয়ে বিদেশে গিয়ে বাস্তবতার ধাক্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।

প্রবাসীদের জীবনের বাস্তবতা শুরু হয় কাজ দিয়ে। আপনি যত শিক্ষিত বা দক্ষই হোন না কেন, শুরুতে অনেক সময় নিজের যোগ্যতার চেয়ে কম কাজ করতে হয়। এতে আত্মসম্মানে আঘাত লাগে, কিন্তু পরিবারের কথা ভেবে মুখ বন্ধ রাখতে হয়। তুমি যদি দেশে থাকতে, হয়তো প্রতিবাদ করতে, কিন্তু প্রবাসে প্রতিবাদ মানেই ঝুঁকি।

আরেকটি বড় বাস্তবতা হলো সময়ের মূল্য। এখানে সময় মানেই টাকা। বিশ্রাম মানেই আয় কমে যাওয়া। আমি দেখেছি, প্রবাসীরা অসুস্থ শরীর নিয়েও কাজে যায়, কারণ একদিন কাজ না করলে পরিবারের খরচের হিসাব নষ্ট হয়ে যায়। এই বাস্তবতা বাইরে থেকে কেউ দেখে না।আপনারা অনেক সময় ভাবেন, প্রবাসীরা শুধু টাকা নিয়েই ব্যস্ত। কিন্তু বাস্তবতা হলো তারা আবেগকে দমিয়ে রাখতে শেখে।

প্রবাসীদের জীবন ও বাস্তবতা মানে নিজের অনুভূতির চেয়ে দায়িত্বকে প্রাধান্য দেওয়া। হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে ক্লান্তি, হতাশা আর একাকীত্ব।প্রবাস জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হলো সবাই ধরে নেয় আপনি ভালো আছেন। তাই কেউ আপনার কষ্ট জানতে চায় না। আপনি নিজেও বলতে চান না, কারণ পরিবারকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে চান না। এই নীরব সহনশীলতাই প্রবাসীদের জীবন ও বাস্তবতার সবচেয়ে বড় চিহ্ন।

প্রবাসীদের জীবন বাস্তবতা

প্রবাসীদের জীবন বাস্তবতা কথাটা শুনতে ছোট হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অসংখ্য ত্যাগ, চাপ আর না বলা গল্প। আমি যখন প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলি, তখন বুঝতে পারি বাস্তবতা অনেক সময় স্বপ্নের ঠিক উল্টো হয়। দেশে বসে তুমি যেই কল্পনা করো, প্রবাসে গিয়ে তার সঙ্গে বাস্তব জীবনের খুব কম মিল পাওয়া যায়। শুরুতেই মানুষ বুঝে যায়, এখানে টিকে থাকতে হলে মনের অনেক ইচ্ছা চেপে রাখতে হবে।

প্রবাসীদের জীবন বাস্তবতার প্রথম ধাক্কা আসে কাজের পরিবেশে। আপনি যে কাজই করুন না কেন, সেখানে শারীরিক ও মানসিক চাপ দুটোই থাকে। অনেক সময় নিজের যোগ্যতার চেয়ে কম পদে কাজ করতে হয়, কম সম্মান পেতে হয়। আমি দেখেছি, অনেক শিক্ষিত মানুষও শুধু পরিবারের কথা ভেবে এই বাস্তবতাকে মেনে নেয়। কারণ প্রবাসে চাকরি হারানো মানে শুধু নিজের ক্ষতি নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাওয়া।

আরেকটি বড় বাস্তবতা হলো একাকীত্ব। তুমি চারপাশে মানুষের ভিড় দেখলেও ভেতরে ভেতরে একা হয়ে পড়ো। নিজের ভাষায় কথা বলার মানুষ কম, মনের কথা শোনার কেউ নেই। আপনারা অনেক সময় ভাবেন, প্রবাসীরা বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দে থাকে। বাস্তবে কাজ আর বিশ্রামের মাঝেই তাদের জীবন আটকে থাকে। এই একাকীত্ব ধীরে ধীরে মানসিক চাপ বাড়ায়।

প্রবাসীদের জীবন বাস্তবতা মানে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা শেখা। পরিবারের কারও অসুখ, বিপদ বা কষ্টের খবর ফোনে শুনে কিছু করতে না পারার অসহায়ত্ব খুব ভয়ংকর। আমি জানি অনেক প্রবাসী আছে, যারা এই পরিস্থিতিতে রাতের পর রাত ঘুমাতে পারে না। কিন্তু সকালে আবার শক্ত মুখোশ পরে কাজে যেতে হয়।এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই প্রবাসীরা বাঁচে। তারা জানে, কষ্টের বিনিময়েই পরিবারের হাসি। এই উপলব্ধিই প্রবাসীদের জীবন বাস্তবতার সবচেয়ে বড় সত্য।

প্রবাস জীবন কেমন

প্রবাস জীবন কেমন এই প্রশ্নের উত্তর একেক মানুষের কাছে একেক রকম হলেও মূল অনুভূতিগুলো প্রায় একই। আমি মনে করি, প্রবাস জীবন হলো নিজের সঙ্গে নিজের প্রতিদিনের যুদ্ধ। তুমি এখানে কাউকে দোষ দিতে পারবে না, কাউকে ভরসা করতে পারবে না সব সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হয়।

প্রবাস জীবনের শুরুটা সবচেয়ে কঠিন। নতুন দেশ, নতুন নিয়ম, নতুন মানুষ সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হয়। আপনি হঠাৎ বুঝতে পারবেন, এখানে আপনার পরিচয় খুব ছোট। দেশে হয়তো সবাই আপনাকে চিনত, কিন্তু প্রবাসে আপনি শুধু আরেকজন কর্মী। এই বাস্তবতা মেনে নেওয়াই প্রবাস জীবনের প্রথম শিক্ষা।

প্রবাস জীবন কেমন হয় তা বোঝা যায় কাজের চাপের মধ্য দিয়ে। অনেক সময় দিনে ১০–১২ ঘণ্টা কাজ করেও ক্লান্তি প্রকাশ করার সুযোগ থাকে না। তুমি যদি ক্লান্ত হও, তাও কাজ থামানো যাবে না। কারণ কাজ মানেই আয়, আর আয় মানেই পরিবারের নিশ্চয়তা। এই চাপে ধীরে ধীরে মানুষ ভেতর থেকে শক্ত হয়ে যায়।

আপনারা যারা প্রবাস জীবনকে শুধু টাকার হিসাব দিয়ে বিচার করেন, তারা এর মানসিক দিকটা বুঝতে পারেন না। প্রবাস জীবন মানে নিজের অনুভূতিকে পেছনে রেখে দায়িত্বকে সামনে আনা। আনন্দের মুহূর্তেও মনে থাকে এই আনন্দের দাম কত কষ্টে পরিশোধ করা হয়েছে।তবুও প্রবাস জীবন পুরোপুরি অন্ধকার নয়। এই জীবন মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে, বাস্তববাদী করে। প্রবাস জীবন কেমন এর উত্তর তাই এক কথায় বলা যায় না। এটি কষ্টের, কিন্তু শিক্ষা ও অভিজ্ঞতায় ভরা।

প্রবাসী জীবন কেমন হয়

প্রবাসী জীবন কেমন হয় তা বাইরে থেকে বোঝা প্রায় অসম্ভব। আমি দেখেছি, প্রবাসী জীবনে মানুষ ধীরে ধীরে নিজের আবেগ লুকাতে শিখে যায়। হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়। তুমি বাইরে যত স্বাভাবিক দেখাও, ভেতরে ভেতরে অনেক প্রশ্ন ঘুরতে থাকে।প্রবাসী জীবনের বড় বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্ববোধ। আপনি জানেন, আপনার আয়ের ওপর পুরো পরিবার নির্ভর করছে।

এই দায়িত্ব মানুষকে ভেতর থেকে শক্ত করে তোলে। অনেক সময় নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা সবকিছু পেছনে চলে যায়। প্রবাসী জীবন কেমন হয় এর উত্তর লুকিয়ে আছে এই ত্যাগের ভেতরেই।প্রবাসী জীবনে সম্পর্কগুলোও বদলে যায়। পরিবারকে সময় দিতে না পারার অপরাধবোধ কাজ করে। তুমি ফোনে কথা বললেও মনে হয়, আসলে অনেক দূরে আছো। আপনারা যারা প্রবাসী নন, তারা হয়তো বুঝবেন না এই দূরত্ব কতটা ভারী।

প্রবাসী জীবন মানে মানসিক চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। কাজের চাপ, ভবিষ্যৎ চিন্তা, ভিসা বা চাকরির অনিশ্চয়তা সব মিলিয়ে মাথার ভেতর সবসময় একটা চাপ থাকে। আমি অনেক প্রবাসীকে দেখেছি, যারা এসব চিন্তা কাউকে না বলে নিজের ভেতরেই ধরে রাখে।তবুও প্রবাসী জীবন মানুষকে সাহসী করে তোলে। এই জীবন শেখায় কীভাবে অল্পতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়, কীভাবে কষ্ট সহ্য করতে হয়। তাই প্রবাসী জীবন কেমন হয় এর উত্তর শুধু কষ্ট নয়, শক্ত হয়ে ওঠার গল্পও।

প্রবাসীদের জীবনের গান

প্রবাসীদের জীবনের গান বলতে আমরা শুধু সুর বা সংগীতকে বুঝি না, বরং এটি একটি অনুভূতির নাম। আমি অনেক প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি গান তাদের কাছে বিনোদন নয়, বরং মানসিক আশ্রয়। তুমি যখন হাজার মাইল দূরে থাকো, তখন একটি গান মুহূর্তের মধ্যে তোমাকে নিজের ঘরে, নিজের মাটিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এই অনুভূতিটা শুধু প্রবাসীরাই সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারে।

প্রবাসীদের জীবনের গান বেশিরভাগ সময় নীরব কষ্টের প্রতিচ্ছবি। কাজ শেষে ক্লান্ত শরীরে যখন তারা একা ঘরে ফেরে, তখন ফোনের প্লেলিস্টে ভেসে ওঠে দেশের গান। আপনি বাইরে থেকে দেখলে ভাববেন, তারা শুধু গান শুনছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সেই গানের প্রতিটি লাইন তাদের জীবনের গল্প হয়ে ওঠে। মা, মাটি, মানুষ সবকিছুর স্মৃতি জেগে ওঠে।

আমি দেখেছি, বিদেশে প্রবাসীদের জীবন কেমন অনেক প্রবাসী রাতের বেলা গান শুনতে শুনতে চোখের পানি মুছছে। তারা কাঁদে না শব্দ করে, কারণ পাশের রুমে অন্য প্রবাসী থাকে। এই নীরব কান্নাই প্রবাসীদের জীবনের গানের বাস্তব রূপ। গান তাদের কষ্ট কমায় না, বরং কষ্টকে ভাষা দেয়।

তুমি যদি প্রবাসী হও, তাহলে জানো দেশের কোনো পুরোনো গান শুনলেই বুকের ভেতর হাহাকার শুরু হয়। আপনারা যারা দেশে থাকেন, তারা হয়তো বুঝবেন না, একটি গান কীভাবে মানুষকে ভেঙে আবার শক্ত করে। প্রবাসীদের জীবনের গান মানে শুধু দুঃখ নয়, এটি আশা আর ধৈর্যের সঙ্গী।এই গানগুলো প্রবাসীদের মানসিক শক্তি জোগায়। একাকীত্বের রাতে গানই হয় সবচেয়ে কাছের বন্ধু। তাই প্রবাসীদের জীবনের গান আসলে তাদের জীবনের নীরব ডায়েরি।

মেয়েদের প্রবাস জীবন

মেয়েদের প্রবাস জীবন অন্য যেকোনো প্রবাস জীবনের চেয়ে বেশি কঠিন ও সংবেদনশীল। আমি মনে করি, একজন নারী যখন প্রবাসে যায়, তখন সে শুধু কাজের চাপ নয় সমাজ, নিরাপত্তা আর মানসিক চাপও বহন করে। তুমি যদি একজন নারী হয়ে প্রবাসে থাকো, তাহলে প্রতিদিন নিজেকে প্রমাণ করতে হয় দ্বিগুণ শক্তি দিয়ে।

মেয়েদের প্রবাস জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশে নিজেকে নিরাপদ রাখা সবসময় সহজ হয় না। আপনারা অনেক সময় ভাবেন, প্রবাসে সবাই সমান সুযোগ পায়। বাস্তবে একজন নারীকে তার আচরণ, চলাফেরা এমনকি পোশাক নিয়েও সচেতন থাকতে হয়। এই অতিরিক্ত সতর্কতা মানসিকভাবে খুব ক্লান্তিকর।

আমি অনেক নারী প্রবাসীর গল্প শুনেছি, যারা পরিবারকে সাহায্য করার জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছে। তারা কাজের পাশাপাশি ঘরের কাজ, মানসিক চাপ সবকিছু একা সামলায়। তুমি যদি তাদের মুখের দিকে তাকাও, হাসি দেখবে, কিন্তু ভেতরের কষ্ট বুঝবে না। মেয়েদের প্রবাস জীবন মানে নীরব সহনশীলতা।

আরেকটি বড় দিক হলো সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি। দেশে থাকলে অনেকেই প্রশ্ন করে মেয়ে হয়ে বিদেশে কেন এই প্রশ্নগুলো প্রবাসে থেকেও নারীদের তাড়া করে বেড়ায়। আপনারা যদি সত্যিই এই জীবনটা বুঝতে চান, তাহলে জানবেন এই নারীরা কতটা সাহসী।তবুও মেয়েদের প্রবাস জীবন শুধু কষ্টের নয়। এই জীবন তাদের আত্মনির্ভরশীল করে, আত্মবিশ্বাসী করে। প্রতিটি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারা নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলে।

আরো পরুন:অনলাইন ইনকাম মোবাইল অ্যাপ

প্রবাসীদের নিয়ে কিছু গল্প

প্রবাসীদের নিয়ে কিছু গল্প আছে, যেগুলো শুনলে মন ভারী হয়ে যায়। আমি এমন একজন প্রবাসীর গল্প জানি, যিনি সন্তানের জন্মের সময় পাশে থাকতে পারেননি। ভিডিও কলে সন্তানকে প্রথম দেখেছিলেন। এই গল্প একা নয়, হাজার হাজার প্রবাসীর জীবনের বাস্তব চিত্র।তুমি যদি এসব গল্প শোনো, বুঝবে প্রবাস জীবন মানে শুধু অর্থনৈতিক সংগ্রাম নয়, আবেগের ত্যাগও।

কেউ বাবার জানাজায় যেতে পারেনি, কেউ মায়ের শেষ কথা শুনতে পারেনি। এই গল্পগুলো খুব নীরবে প্রবাসীদের হৃদয়ে জমে থাকে।আপনারা অনেক সময় বলেন সবাই তো নিজের ইচ্ছায় প্রবাসে যায়। কিন্তু এসব গল্প প্রমাণ করে, অনেক সময় ইচ্ছার চেয়ে দায়িত্ব বড় হয়ে ওঠে। প্রবাসীদের নিয়ে কিছু গল্প আমাদের শেখায়, জীবনের মূল্য শুধু টাকায় মাপা যায় না।

আমি দেখেছি, বিদেশে প্রবাসীদের জীবন কেমন প্রবাসীরা নিজেদের কষ্ট গল্প আকারে বলতে চায় না। তারা চায় পরিবার ভালো থাকুক, হাসুক। তাই তাদের গল্পগুলো বেশিরভাগ সময় অজানা থেকে যায়। কিন্তু এই অজানা গল্পগুলিই প্রবাস জীবনের আসল ইতিহাস।এই গল্পগুলো পড়লে বা শুনলে প্রবাসীদের প্রতি সম্মান বাড়ে। কারণ প্রতিটি গল্পের পেছনে আছে ত্যাগ, ভালোবাসা আর নিরব সাহস।

প্রবাসীদের কষ্টের স্ট্যাটাস

প্রবাসীদের কষ্টের স্ট্যাটাস অনেক সময় খুব ছোট হয়, কিন্তু তার ভেতরের অর্থ বিশাল। আমি দেখেছি, একটি লাইনের পেছনে লুকিয়ে থাকে দিনের পর দিন জমে থাকা কষ্ট। তুমি হয়তো ফেসবুকে পড়ো সব ঠিক আছে কিন্তু বাস্তবে কিছুই ঠিক থাকে না। এই স্ট্যাটাসগুলো আসলে প্রবাসীদের না বলা কথার প্রতিচ্ছবি।

প্রবাসীরা তাদের কষ্ট প্রকাশ করতে চায় না বলেই স্ট্যাটাসগুলো হয় সংক্ষিপ্ত। আপনি যদি মন দিয়ে পড়েন, বুঝবেন সেখানে লুকিয়ে আছে একাকীত্ব, ক্লান্তি আর দায়িত্বের চাপ। মিস ইউ মা দেশের মাটির গন্ধটা খুব দরকার এই কথাগুলো শুধু লেখা নয়, এগুলো বুকের ভেতরের হাহাকার।আমি অনেক প্রবাসীকে দেখেছি, যারা পরিবারের কথা ভেবে নিজের কষ্ট চেপে রাখে। তারা জানে, সত্যিটা বললে পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়বে। তাই স্ট্যাটাসে তারা কষ্টকে হালকা করে লেখে, যেন কেউ বেশি প্রশ্ন না করে। এই নীরবতাই প্রবাসীদের কষ্টের স্ট্যাটাসের আসল রূপ।

তুমি যদি প্রবাসী হও, তাহলে জানো কখনো কখনো একটি স্ট্যাটাস দেওয়াই হয়ে ওঠে মানসিক হালকা হওয়ার উপায়। কারও কমেন্ট, কারও একটি ভাই সাবধানে থেকো এই ছোট সহানুভূতিই অনেক শক্তি দেয়। আপনারা যারা দেশে থাকেন, তারা যদি এই স্ট্যাটাসগুলো বুঝে পড়েন, প্রবাসীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে।প্রবাসীদের কষ্টের স্ট্যাটাস তাই শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার লেখা নয়। এগুলো হলো প্রবাস জীবনের নীরব ডায়েরি, যেখানে হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে অগণিত দীর্ঘ রাতের গল্প।

প্রবাসে কোন দেশ ভালো

প্রবাসে কোন দেশ ভালো এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেওয়া যায় না। আমি মনে করি, কোন দেশ ভালো তা নির্ভর করে আপনার দক্ষতা, মানসিকতা, কাজের ধরন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর। তুমি যদি শুধু অন্যের কথা শুনে সিদ্ধান্ত নাও, তাহলে প্রবাস জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

অনেক মানুষ মনে করে, ইউরোপ বা আমেরিকা মানেই সেরা। কিন্তু বাস্তবতা হলো সেখানে জীবনযাত্রার খরচ বেশি, প্রতিযোগিতা কঠিন। আবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজ পাওয়া তুলনামূলক সহজ হলেও কাজের চাপ বেশি। আপনারা যদি শ্রমিক হিসেবে যান, তাহলে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার অনেকের জন্য উপযোগী হতে পারে।

আমি দেখেছি,বিদেশে প্রবাসীদের জীবন কেমন  স্কিলড মানুষদের জন্য কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপ ভালো সুযোগ দেয়। কিন্তু সেখানে যেতে হলে ভাষা, কাগজপত্র আর মানসিক প্রস্তুতি দরকার। তুমি যদি প্রস্তুতি ছাড়া যাও, তাহলে হতাশা আসতে পারে। তাই “প্রবাসে কোন দেশ ভালো প্রশ্নের আগে নিজেকে প্রশ্ন করা জরুরি আমি কী পারি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানসিক শান্তি। কিছু দেশে টাকা বেশি পাওয়া যায়, কিন্তু মানসিক চাপও বেশি। আবার কিছু দেশে আয় কম হলেও জীবন একটু শান্ত। আপনারা যদি পরিবারকে ভবিষ্যতে নিয়ে যেতে চান, তাহলে সেই দিকটাও ভাবতে হবে।প্রবাসে কোন দেশ ভালো তা নয়, বরং কোন দেশ আপনার জীবনধারা ও লক্ষ্যের সঙ্গে মানানসই সেটাই আসল। সঠিক সিদ্ধান্তই প্রবাস জীবনের অর্ধেক কষ্ট কমিয়ে দিতে পারে।

প্রবাস জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা

প্রবাস জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা বাইরে থেকে কল্পনার মতো মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তা অনেক কঠিন। আমি দেখেছি, অনেক মানুষ স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে গিয়ে বাস্তবতার ধাক্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ভাষার সমস্যা, কাজের চাপ আর একাকীত্ব সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হয়।প্রবাস জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার বড় অংশ জুড়ে আছে কাজের চাপ। আপনি যত যোগ্যই হোন, শুরুতে অনেক সময় নিজের পছন্দের কাজ পান না।

তখন নিজের আত্মসম্মান আর পরিবারের প্রয়োজন এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রাখতে হয়। তুমি যদি দেশে থাকতে, হয়তো আপস করতে না, কিন্তু প্রবাসে আপসই টিকে থাকার উপায়।আরেকটি বাস্তব অভিজ্ঞতা হলো মানসিক দূরত্ব। পরিবার ফোনে কাছের মনে হলেও বাস্তবে অনেক দূরে। আমি অনেক প্রবাসীর কথা জানি, যারা পরিবারের অসুখ বা সমস্যায় পাশে থাকতে পারেনি। এই অসহায়ত্ব প্রবাস জীবনের সবচেয়ে ভারী অভিজ্ঞতা।এই বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলোই প্রবাসীদের মানুষ হিসেবে আরও শক্ত করে তোলে।

বিদেশে প্রবাসীদের কষ্টের গল্প

বিদেশে প্রবাসীদের কষ্টের গল্প কখনো জোরে বলা হয় না, এগুলো বেশিরভাগ সময় নীরব থাকে। আমি এমন অনেক প্রবাসীর গল্প জানি, যারা সন্তানের জন্ম, মায়ের অসুখ কিংবা বাবার মৃত্যু কোনোটাতেই পাশে থাকতে পারেনি। এই কষ্টগুলো বুকের ভেতর জমে থাকে।তুমি যদি এসব গল্প শোনো, বুঝবে প্রবাস জীবন মানে শুধু অর্থনৈতিক সংগ্রাম নয়, আবেগের ত্যাগও। প্রবাসীরা নিজের কষ্ট প্রকাশ করতে চায় না, কারণ তারা চায় পরিবার ভালো থাকুক।

তাই তাদের কষ্টের গল্পগুলো বেশিরভাগ সময় অজানাই থেকে যায়।আপনারা অনেক সময় বলেন বিদেশে আছে, নিশ্চয়ই ভালো আছে। কিন্তু এই গল্পগুলো প্রমাণ করে, ভালো থাকার পেছনে কতটা ত্যাগ লুকিয়ে থাকে। বিদেশে প্রবাসীদের কষ্টের গল্প আমাদের সহানুভূতিশীল হতে শেখায়।এই গল্পগুলোই প্রবাস জীবনের আসল ইতিহাস।

প্রবাস জীবনের সুবিধা ও অসুবিধা

প্রবাস জীবনের সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সুবিধার দিক থেকে বললে, প্রবাস জীবন অনেককে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করে তোলে। আপনি পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেন, সন্তানদের ভালো ভবিষ্যৎ দিতে পারেন। এই সুবিধাটাই মানুষকে প্রবাসে টেনে নিয়ে যায়।কিন্তু অসুবিধার দিকটাও কম নয়।

পরিবার থেকে দূরে থাকা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা আর মানসিক চাপ এই অসুবিধাগুলো প্রতিদিন প্রবাসীদের সঙ্গী হয়। তুমি টাকা পাঠালেও নিজের উপস্থিতি পাঠাতে পারো না এই সত্যটাই সবচেয়ে কষ্টের।আপনারা যদি প্রবাস জীবনের সুবিধা ও অসুবিধা তুলনা করেন, দেখবেন সুবিধা বেশিরভাগ সময় আর্থিক, আর অসুবিধা মানসিক। এই মানসিক দিকটাই সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত।এই দুই দিক বুঝেই প্রবাস জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

প্রবাস জীবন কেন কঠিন

প্রবাস জীবন কেন কঠিন এর উত্তর এক কথায় দেওয়া যায় না। আমি মনে করি, প্রবাস জীবন কঠিন কারণ এখানে মানুষ একা। পরিবার, সমাজ আর পরিচিত পরিবেশ সবকিছু ছেড়ে নতুনভাবে শুরু করতে হয়।তুমি এখানে নিজের কষ্ট কাউকে বলতে পারো না। কারণ সবাই ধরে নেয়, তুমি ভালো আছ। এই ভুল ধারণাই প্রবাস জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। নিজের অনুভূতি নিজের ভেতরেই আটকে রাখতে হয়।

আরেকটি কারণ হলো অনিশ্চয়তা। চাকরি, ভিসা, ভবিষ্যৎ সবকিছু নিয়েই দুশ্চিন্তা থাকে। আপনারা যদি এই চাপ কল্পনা করেন, বুঝবেন কেন প্রবাস জীবন কঠিন।তবুও মানুষ এই কঠিন জীবন বেছে নেয়, কারণ পরিবারের জন্য এই কষ্টই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

লেখকের মন্তব্য: বিদেশে প্রবাসীদের জীবন কেমন

আমি যখন বিদেশে প্রবাসীদের জীবন নিয়ে লিখেছি, তখনই বুঝেছি বিদেশে প্রবাসীদের জীবন কেমন। বাইরে থেকে আমরা প্রবাসীদের জীবনকে ঝলমলে মনে করি। সুন্দর বাড়ি, আড়ম্বরপূর্ণ জীবন, আর্থিক স্বচ্ছলতা। কিন্তু বাস্তবে যা দেখা যায়, তা অনেকটা ভিন্ন। আমি উপলব্ধি করেছি, প্রবাস মানে শুধু দূরত্ব নয়, এটি নীরব এক সংগ্রাম। আমি, তুমি, আপনারা যদি সত্যিই প্রবাসীদের জীবন বুঝতে চান, তবে চোখে দেখা নয়, হৃদয়ে অনুভব করতে হবে।

আমার কাছে প্রবাসীদের জীবন মানে সাহসের গল্প। তারা কষ্ট লুকিয়ে রাখে, কিন্তু কখনো হাল ছাড়ে না। আমি আশা করি, এই লেখা পড়ে আপনারা বুঝবেন, প্রবাস জীবন শুধু দূরত্ব বা উপার্জন নয়, এটি এক দীর্ঘ যাত্রা পরিবারের জন্য ত্যাগ, নিজের জন্য ধৈর্য, এবং মানবিক শক্তি অর্জনের গল্প। প্রবাসীরা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং তাদের সংগ্রাম শ্রদ্ধার দাবিদার।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ছায়ানীড় ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url